Topic: মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ঐতিহাসিক ভাষণ - ৮
আগের পর্ব-
মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ঐতিহাসিক ভাষণ - ১
মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ঐতিহাসিক ভাষণ - ২
মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ঐতিহাসিক ভাষণ - ৩
মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ঐতিহাসিক ভাষণ - ৪
মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ঐতিহাসিক ভাষণ - ৫
মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ঐতিহাসিক ভাষণ - ৬
মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির ঐতিহাসিক ভাষণ - ৭
--
তারপর আফগানিস্তানযুদ্ধের কথায় আসা যাক। এ ব্যাপারেও তদন্ত হতে হবে।
আমরা কেন তালেবানদের বিরোধিতা করব? আমরা কেন আফগানিস্তানের বিরোধিতা করব? তালেবান কারা?
তালেবানরা যদি চায় আফগানিস্তানে ধর্মীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে, তবে করুক। এতে আমাদের সমস্যা কী? ঠিক ভ্যাটিকান সিটির মতো। ভ্যাটিকান সিটি কি কারও জন্য হুমকি? না, কখনো না। একটি ধর্মীয় শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র। যদি আফগানরা তাদের জন্য একটি ইসলামি রাষ্ট্র বানাতে চায়, তা হলে সেটা ভ্যাটিকানের মতো হোক। কে বলেছে , তালেবানরা শত্রু । কে বলেছে যে, চল সৈন্য তৈরি করে তাদেরকে মারতে চল?! বিন লাদেন কি আফগানি? বিন লাদেন কি তালেবানি? না, কখনো না। বিন লাদেন তালেবানও না, আফগানিও না।
যেসব সন্ত্রাসীরা নিউইয়র্ক সিটিতে হামলা করেছে, যে সিটিতে বর্তমানে আমরা রয়েছি। তারা কি আফগান? তারা কি তালেবান? না, কখনো না। তারা আফগান নয়, তারা তালেবান নয়। তাহলে কেন ইরাক ? এবং কেন আফগানিস্তান?
আমি যদি আমার আমেরিকান ও বৃটিশ বন্ধুদেরকে ধোঁকা দিতে চাই তাহলে হয়ত এ কথা তাদেরকে বলব না। বরং তাদেরকে আরো উৎসাহ দেব। বলব যে, আপনারা আফগানিস্তান ছাড়বেন না, আপনারা আফগানিস্তানে আরো সৈন্য পাঠান। যাতে তারা রক্তের সাগরে ডুবে মরে। কেননা তারা আফগানিস্তানে ও ইরাকে কোনো নির্দিষ্ট ফল পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না।
আপনারা ইরাকে দেখেছেন সেখানে কি ঘটেছে। যদিও ইরাক একটি মরুভূমি, উন্মুক্ত জমিন। আর আফগানিস্তান সে তো পাহাড় পর্বত। কেয়ামত পর্যন্ত আফগানদেরকে কেও হারাতে পারবে না।
যদি তাদেরকে ধোঁকা দিতে চাই তাহলে বলব: ভাল, ভাল, আফগান যুদ্ধ চালিয়ে যান। ইরাক যুদ্ধ চালিয়ে যান।
তবে না, আমি তাদেরকে উদ্ধার করতে চাই। এই অসহায় জনগণের ছেলেপেলেদেরকে উদ্ধার করতে চাই। আমেরিকা ও অন্যান্য দেশ, যেগুলো আফগানিস্তানে যুদ্ধ করছে, ইরাকে যুদ্ধ করছে। তাদেরকে বলব, আফগানিস্তান আফগানদের জন্য ছেড়ে দিন। ইরাক ইরাকিদের জন্য ছেড়ে দিন। তাদেরকে ছেড়ে দিন যদিও তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তবু। তারা এ ব্যাপারে স্বাধীন।
এখানে, এই আমেরিকাতেও যদি ঘরোয়া যুদ্ধ হয় তাহলে কে এখানে নাক গলাতে আসবে? যদি না হয় তবুও কেও নাক গলাবে না। স্প্যানে কোনো ঘরোয়া যুদ্ধ নেই। চীনে ঘরোয়া যুদ্ধ। পৃথিবীর সবখানেই ঘরোয়া যুদ্ধ। চলুক না ঘরোয়া যুদ্ধ।
ইরাকিদেরকে ছেড়ে দিন তারা পরস্পরে যুদ্ধ করুক। তারা এ ব্যাপারে স্বাধীন। আফগানদেরকে ছেড়ে দিন পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করুক।
কে বলেছে যে আফগানরা যদি আফগানিস্তান শাসন করে, তা হবে খুব ভয়ংকর। তালেবানদের কি দূরপাল্লার রকেট রয়েছে? যেসব বিমান নিউইয়র্কে আঘাত করেছে, সেগুলো কি আফগানিস্তান থেকে এসেছে? না ইরাক থেকে?
সেগুলো এখান থেকে, এই নিউইয়র্কের কেনেডি বিমানবন্দর থেকে এসেছে। তাহলে আমরা কীভাবে গিয়ে আফগানিস্তানকে মারতে শুরু করলাম।
ওরা তো আফগানও নয়, তালেবানও নয়, ইরাকিও নয়।
এগুলো কীভাবে ঘটছে। আমরা কীভাবে চুপ থাকব?
যে ব্যক্তি সত্য বলা থেকে চুপ থাকে সে বোবা শয়তান। আমরা বোবা শয়তান হতে চাই না। এটা আমাদের অধিকার। কেননা আমরা বিশ্ব শান্তি চাই। আমরা পৃথিবীর সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই। আমরা মানবতা লুণ্ঠিত হতে দেব না। এভাবে মানবজাতি হেস্ত-ন্যস্ত হবে তা মেনে নেওয়া যায় না।
(চলবে...)
সেই সহনশীলতা আর সৌন্দর্য আজকের মুসলমানদের ভেতরে অনুপস্থিত! আফসোস!!
