Topic: জামায়াতকে জনসভা করতে দেয়া হচ্ছেনা!
জামায়াত বাংলাদেশের একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠিত প্রথম সারির রাজনৈতিক দল। অথচ তাদেরকে নির্বিঘ্নভাবে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা!
আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, গত ২ মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের সমাবেশে সরকারপন্থীদের অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। সরকার এ পর্যন্ত রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বগুড়া, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বরিশাল, সাতক্ষীরা, সিলেট, শেরপুর, মেহেরপুর, যশোর, নেত্রকোনা, কুমিল্লাসহ দেশের ২০টির অধিক স্থানে অন্যায়ভাবে ১৪৪ ধারা জারি করে জামায়াতের সভা-সমাবেশ বানচাল করে দিয়েছে। এর সর্বশেষ নগ্ন নজির আজকের পল্টনের জনসভা। প্রশ্ন হলো সরকার একটি দলকে একটি স্থানের জন্য সুযোগ দিলে সেখানে অন্য কারো সুযোগ পাওয়ার সুযোগ থাকবে কেন? যেহেতু পল্টনে জনসভাটি উভয় দলেরই "রাজনৈতিক অধিকার", তবে যুবলীগের জন্য অন্য একটি দিন বরাদ্দ দেয়া হলোনা কেন? যুবলীগইবা কোন্ লক্ষ্য নিয়ে অন্য দলের পূর্বনির্ধারিত স্থানে পুনরায় বরাদ্দ পেতে চেয়েছে?
"...পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, বিষয়টা সর্প হয়ে দর্শন করে ওঝা হয়ে ঝাড়ার সাথেই তুলনীয় হতে পারে। একটি সরকারি দল অন্যের জনসভার পূর্ব-নির্ধারিত স্থানে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিল। সরকার এই অন্যায়ের প্রতিকার না করে ঐ স্থানে সভা-সমাবেশ বন্ধ করার মধ্যেই রিমেডি খুঁজে পেল। এর অর্থ নিজে কারণ সৃষ্টি করে সেই কারণকে অজুহাত বানিয়ে সরকার তার রাজনৈতিক মতলব হাসিল করছে।" (দৈনিক সংগ্রাম, ৩১ মে ২০১০)
জামায়াতের দাবীঃ
আজকের জনসভা অনুষ্ঠানের জন্য পল্টন ময়দান ব্যবহারের অনুমতি প্রার্থনা করে গত ১০ মে ঢাকা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিকট আবেদন করেন। গত ১৮ মে আবেদন মঞ্জুর করে ১,৫০,০০০ টাকা সিকিউরিটি হিসেবে জমা নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আজ ৩১ মে পল্টন ময়দান ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে। ঐ দিনই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অনুমতিপত্রের অনুলিপি সরকারের নিম্নোক্ত কর্মকর্তাগণের বরাবরে প্রেরণ করে, তাদের মধ্যে রয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রমুখ।.......
মজার কথা হলো, গত ১ সপ্তাহ ধরে ঢাকার অলিতে-গলিতে জামায়াতের পোস্টার-ব্যানার যত্রতত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে, অপরদিকে যুবলীগের কোনও প্রচারণা কারো চোখে পড়েনি (১%ও না!)!! তবে কি তাদের উদ্দেশ্যই ছিল কেবল ১৪৪ ধারা আনিয়ে নিয়ে জামায়াতের কার্যক্রম বিঘ্নিত করা??
আওয়ামী যুবলীগের এহেন পদক্ষেপ তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরিত্রই প্রদর্শন করছে। জামায়াত পল্টন ময়দানে এমন একটা শোডাউন করবে, তা যেন তাদের গা-জ্বালা বাড়িয়ে দিয়েছে! হায়রে পরশ্রীকাতরতা!
এতসব প্রশ্ন আর সংশয়ের মুখোমুখি আজ আমরা। দিনশেষে দেখা যাবে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোন ইতিহাস রচিত হয় কিনা। একদিকে জামায়াত এখন পর্যন্ত অনঢ় অবস্থানে আছে, অপরদিকে রয়েছে সরকারনিয়ন্ত্রিত পুলিশের মারমুখি আক্রমণের আশংকা।
আমাকেও রাখিও রহমান-
যারা কোরআনের আহবানে নির্ভীক,
নির্ভয়ে সব করে দান।"
