Topic: ইসলামে আনুগত্য

-১ম পর্ব-
ইসলামে আনুগত্য

আনুগত্যঃ ইসলামের জীবন ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হল আনুগত্য । সূরা সূরা আন নেসার (৫৯-৭০) আয়াতে ইসলামের সমগ্র ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের আনুগত্যের  মূলনীতিসমূহ বর্ণিত হয়েছে । নিম্নে এ বিষয়ে কিঞ্চিত আলোচনার চেষ্টা করা হল ।
আল্লাহ বলেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً *  أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُواْ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُواْ إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُواْ أَن يَكْفُرُواْ بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلاَلاً بَعِيدًا * وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْاْ إِلَى مَا أَنزَلَ اللّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًا * فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَآؤُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلاَّ إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا * أُولَـئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِي أَنفُسِهِمْ قَوْلاً بَلِيغًا * وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلاَّ لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُواْ أَنفُسَهُمْ جَآؤُوكَ فَاسْتَغْفَرُواْ اللّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُواْ اللّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا * সুরা নেসা ( ৫৯-৬৪)

অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ করযদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসোযা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন বিপদ আরোপিত হয়, তবে তাতে কি হল! অতঃপর তারা আপনার কাছে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে ফিরে আসবে যে, মঙ্গল ও সম্প্রীতি ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও আল্লাহ তা’আলা অবগত। অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন এবং ওদেরকে সদুপদেশ দিয়ে এমন কোন কথা বলুন যা তাদের জন্য কল্যাণকর। বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশনিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।

সূরা আন নেসার (৫৯-৭০) আয়াত ইসলামের সমগ্র ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের বুনিয়াদ৷ এটি একটি ইসলামী রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রের প্রথম নম্বর ধারা৷ এখানে নিম্নলিখিত মূলনীতিগুলো স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়া হয়েছে৷

একঃ ইসলামের জীবন ব্যবস্থায় আসল আনুগত্য লাভের অধিকারী হচ্ছেন আল্লাহ৷ একজন মুসলমানের সর্বপ্রথম পরিচয় হচ্ছে সে আল্লাহর বান্দা৷ এরপর সে অন্য কিছু৷ মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবন এবং মুসলমানদের সমাজ ব্যবস্থা উভয়ের কেন্দ্র ও লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য করা ও বিশ্বস্ততার সাথে তাঁর নির্দেশ মেনে চলা৷ অন্যান্য আনুগত্য ও অনুসৃতি কেবল মাত্র তখনই গৃহীত হবে যখন তা আল্লাহর আনুগত্য অনুসৃতির বিপরীত হবে না৷ বরং তার অধীন ও অনুকূল হবে৷ অন্যথায় এই আসল ও মৌলিক আনুগত্য বিরোধী প্রতিটি আনুগত্য শৃংখলকে ভেঙ্গে দূরে নিক্ষেপ করা হবে৷ একথাটিকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্মোক্ত বক্তব্যে পেশ করেছেন:
لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق
অর্থঃ  স্রষ্টার নাফরমানি করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না৷

দুইঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থার দ্বিতীয় ভিত্তি হচ্ছে, রসূলের আনুগত্য৷ এটি কোন স্বতন্ত্র ও স্বয়ং সম্পূর্ণ আনুগত্য নয়৷ বরং আল্লাহর আনুগত্যের এটিই একমাত্র বাস্তব ও কার্যকর পদ্ধতি ৷ রসূলের আনুগত্য এ জন্য করতে হবে যে, আল্লাহর বিধান ও নির্দেশ আমাদের কাছে পৌছার তিনিই একমাত্র বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম৷ আমরা কেবলমাত্র রসূলের আনুগত্য করার পথেই আল্লাহর আনুগত্য করতে পারি৷ রসূলের সনদ ও প্রমাণপত্র ছাড়া আল্লাহর কোন আনুগত্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না৷ আর রসূলের আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নামান্তর ৷ নিম্নোক্ত হাদীসে এই বক্তব্যটিই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছেঃ
  مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَمَنْ أَطَاعَ أَمِيرِي فَقَدْ أَطَاعَنِي وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي
অর্থঃ যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করলো সে আসলে আল্লাহর আনুগত্য করলো এবং যে ব্যক্তি আমার নাফরমানি করলো সে আসলে আল্লাহর নাফরমানি করলো৷ যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করলো সে আসলে আমার আনুগত্য করলো এবং যে ব্যক্তি আমীরের নাফরমানি করলো সে আসলে আমার নাফরমানি করলো৷

একথাটিই কুরআনে সামনের দিকে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে পেশ করা হয়েছে৷
তিনঃ উপরোল্লিখিত দুটি আনুগত্যের পর তাদের অধীনে তৃতীয় আর একটি আনুগত্য ইসলামী জীবন ব্যবস্থার আওতাধীনে মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব৷ সেটি হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে থেকে 'উলিল আমর' তথা দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারীদের আনুগত্য৷ মুসলমানদের সামাজিক ও সামষ্টিক কার্যকালাপের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পন্ন ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি মাত্রই ' উলিল আমর '-এর অন্তরভুক্ত৷ তারা মুসলমানদের মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও চিন্তাগত ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারী উলামায়ে কেরাম বা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হতে পারেন, আবার দেশের শাসনকার্য পরিচালনাকারী প্রশাসকবৃন্দ হতে পারেন, অথবা আদালতে বিচারের রায় প্রদানকারী শেখ সরদার প্রধানও হতে পারেন৷ মোটকথা যে ব্যক্তি যে কোন পর্যায়েই মুসলমানদের নেতৃত্বদানকারী হবেন তিনি অবশ্যি আনুগত্য লাভের অধিকারী হবেন৷ তার সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে মুসলমানদের সামাজিক জীবনে বাধা-বিপত্তি ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করা যাবে না৷ তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, তাকে মুসলিম দলভুক্ত হতে হবে এবং আল্লাহ ও রসূলের অনুগত হতে হবে৷ এই আনুগত্যের জন্য এই শর্ত দুটি হচ্ছে অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক৷ কেবলমাত্র উল্লেখিত আয়াতটির মধ্যভাগে এ সুস্পষ্ট শর্তটি সংশ্লিষ্ট হয়নি বরং হাদীসেও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিপূর্ণ ব্যাপকতার সাথে দ্ব্যর্থহীনভাবে এটি বর্ণনা করেছেন৷ যেমন নিম্নোক্ত হাদীসগুলো দেখা যেতে পারেঃ
«السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ، مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ، فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَة»
অর্থঃ নিজের নেতৃবৃন্দের কথা শোনা ও মেনে চলা মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য, তা তার পছন্দ হোক বা না হোক, যে পর্যন্ত না তাকে নাফরমানি হুকুম দেয়া হয়৷ আর যখন তাকে নাফরমানির হুকুম দেয়া হয় তখন তার কিছু শোনা ও আনুগত্য করা উচিত নয়৷ ( বুখারী ও মুসলিম)
"لا طاعة في معصية. إنما الطاعة في المعروف"
অর্থঃ আল্লাহ ও রসূলের নাফরমানীর ক্ষেত্রে কোন আনুগত্য নেই, আনুগত্য করতে হবে শুধুমাত্র 'মারুফ' বা বৈধ ও সৎকাজে ৷ ''

يكون أمراء تعرفون وتنكرون ، فمن أنكر فقد برىء ، ومن كره فقد سلم ، ولكن من رضي وتابع ، فقالوا : يا رسول الله : ألا نقاتلهم ؟ قال : لا ، ما صلوا .
অর্থঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ওপর এমন সব লোকও শাসন কর্তৃত্ব চালাবেন যাদের অনেক কথাকে তোমরা মারুফ (বৈধ) ও অনেক কথাকে মুনকার ( অবৈধ ) পাবে৷ এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি তাদের মুনকারের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে, সে দায়মুক্ত হয়ে গেছে৷ আর যে ব্যক্তি তা অপছন্দ করেছে, সেও বেঁচে গেছে৷ কিন্তু যে ব্যক্তি তাতে সন্তুষ্টি হয়েছে এবং তার অনুসরণ করেছে সে পাকড়াও হবে৷ সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, তাহলে এ ধরনে শাসকদের শাসনামলে কি আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবো না ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দেনঃ না, যতদিন তারা নামায পড়তে থাকবে (ততদিন তাদের সাথে যুদ্ধ করতে পারবে না)৷ -(মুসলিম)
অর্থাৎ নামায পরিত্যাগ করা এমন একটি আলামত হিসেবে বিবেচিত হবে, যা থেকে সুস্পষ্টভাবে জানা যাবে যে, তারা আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেছে৷ এ অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ন্যায়সংগত হবে৷ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
خِيَارُ أَئِمَّتِكُمْ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمْ الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ وَتَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ.
قَالُوا : قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا نُنَابِذُهُمْ عِنْدَ ذَلِكَ؟
قَالَ : لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمْ الصَّلَاةَ.
لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمْ الصَّلَاةَ .

অর্থঃ ''' তোমাদের নিকৃষ্টতম সরদার হচ্ছে তারা যারা তোমাদেরকে ঘৃণা করে এবং তোমরা তাদেরকে ঘৃণা করো, তোমরা তাদের প্রতি লানত বর্ষণ করতে থাকো এবং তারা তোমাদের প্রতি লানত বর্ষণ করতে থাকে৷ সাহাবীগণ আরজ করনে, হে আল্লাহর রসূল৷ যখন এ অবস্থার সৃষ্টি হয় তখন কি আমরা তাদের মোকাবিলা করার জন্য মাথা তুলে দাঁড়াবো না ? জবাব দেনঃ না, যতদিন তারা তোমাদের মধ্যে নামায কায়েম করতে থাকবে ! না, যতদিন তারা তোমাদের মধ্যে নামায কায়েম করতে থাকবে!"

এই হাদীসটি ওপরে বর্ণিত শর্তটিকে আরো সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছে৷ ওপরের হাদীসটি থেকে ধারণা হওয়া স্বাভাবিক ছিল যে, যতদিন তারা ব্যক্তিগত জীবনে নামায পড়তে থাকবে ততদিন তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না৷ কিন্তু এই হাদীসটি থেকে একথা জানা যায় যে, নামায পড়া মানে আসলে মুসলমানদের সমাজ জীবনে নামাযের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ৷ অর্থাৎ কেবলমাত্র তাদের নিজেদের নিয়মিতভাবে নামায পড়াটাই যথেষ্ট হবে না বরং এই সংগে তাদের আওতাধীনে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে সেখানেও কমপক্ষে ''ইকামাতে সালাত' তথা নামায প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরী বিবেচিত হবে৷ তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা তার আসল প্রকৃতির দিক দিয়ে যে একটি ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা এটি হবে তারই একটি আলামত ৷ অন্যথায় যদি একটুকুও না হয়, তাহলে এর অর্থ হবে যে, তারা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে তাদের শাসন ব্যবস্থাকে উলটে ফেলার জন্য প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালানো মুসলমানদের জন্য বৈধ হয়ে যাবে৷ একথাটিকেই অন্য একটি হাদীসে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের থেকে অন্যান্য আরো বিভিন্ন বিষয়ের সাথে এ ব্যাপারেও অংগীকার নিয়েছেনঃ
وَأَنْ لَا نُنَازِعَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ إِلَّا أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِنْ اللَّهِ فِيهِ بُرْهَانٌ
অর্থঃ '' আমরা আমাদের সরদার ও শাসকদের সাথে ঝগড়া করবো না, তবে যখন আমরা তাদের কাজে প্রকাশ্য কুফরী দেখতে পাবো যার উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে পেশ করার জন্য আমাদের কাছে প্রমাণ থাকবে৷‌" (বুখারী ও মুসলিম)

চারঃ চতুর্থ যে মূলনীতিটি এ আয়াতটি থেকে স্থায়ী ও চূড়ান্তভাবে স্থিরীকৃত হয়েছে সেটি হচ্ছে এই যে, ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় আল্লাহর হুকুম ও রসূলের সুন্নাত হচ্ছে মৌলিক আইন ও চূড়ান্ত সনদ (Final Authority) মুসলমানদের মধ্যে অথবা মুসলিম সরকার ও প্রজাদের মধ্যে কোন বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে তার মীমাংসার জন্য কুরআন ও সুন্নাতের দিকে ফিরে আসতে হবে৷ কুরআন ও সুন্নাত এ ব্যাপারে কুরআন ও রসূলের সুন্নাতকে সনদ, চূড়ান্ত ফায়সালা ও শেষকথা হিসেবে মেনে নেয়ার বিষয়টি ইসলামী জীবন ব্যবস্থার এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যা তাকে কুফরী জীবন ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়৷ যে ব্যবস্থায় এ জিনিসটি অনুপস্থিত থাকে সেটি আসলে একটি অনৈসলামী ব্যবস্থা৷
এ প্রসংগে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করে বলে থাকেন যে, জীবনের যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালার জন্য কুরআন ও সুন্নাতের দিকে ফিরে যাওয়া কিভাবে সম্ভব হতে পারে ? কারণ মিউনিসিপ্যালিটি, রেলওয়ে, ডাকঘর ইত্যাদি অসংখ্য বিষয় সম্পর্কিত কোন নিয়ম-কানুনের উল্লেখই সেখানে নেই৷ কিন্তু এ সংশয়টি আসলে দীনের মূলনীতি সঠিকভাবে অনুধাবন না করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে৷ একজন মুসলমানকে একজন কাফের থেকে যে বিষয়টি আলাদা ও বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত করে সেটি হচ্ছে, কাফের অবাধ স্বাধীনতার দাবীদার৷ আর মুসলমান মূলত আল্লাহর বান্দা ও দাস হবার পর তার রব মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে যতটুকু স্বাধীনতা দান করেছেন শুধুমাত্র ততটুকু স্বাধীনতা ভোগ করে৷ কাফের তার নিজের তৈরী মূলনীতি ও আইন-বিধানের মাধ্যমে তার যাবতীয় বিষয়ের মীমাংসা করে৷ এসব মূলনীতি ও বিধানের ক্ষেত্রে কোন ঐশী সমর্থন ও স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে বলে সে মনে করে না এবং নিজেকে এর মুখাপেক্ষীও ভাবে না৷ বিপরীত পক্ষে মুসলমান তার প্রতিটি ব্যাপারে সর্বপ্রথম আল্লাহ ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে ফিরে যায়৷ সেখান থেকে কোন নির্দেশ পেলে সে তার অনুসরণ করে৷ আর কোন নির্দেশ না পেলে কেবল মাত্র এই অবস্থায়ই সে স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুযোগ লাভ করে৷ এ ক্ষেত্রে তার এই কর্মের স্বাধীনতার মূলভিত্তি একথার ওপরই স্থাপিত হয় যে, এই ব্যাপারে শরীয়াত রচয়িতার পক্ষ থেকে কোন বিধান না দেয়াই একথা প্রমাণ করে যে তিনি এ ক্ষেত্রে কর্মের স্বাধীনতা প্রদান করেছেন৷ ( তাফহীমুল কোরআন, সূরা আন নেসা, টিকা ৮৯)

Last edited by আনসারুল্লাহ (2010-06-15 12:06:53)

এ দুনিয়ার রঙ্গমঞ্চে কেউ হাসে আর কেউবা গায়
কেউবা কাঁদে চ্ছিন্নবস্ত্রে কেউবা স্বর্নের বিছানায়
কেউবা হাসে ফাঁসির মঞ্চে কেউবা বসে গাছতলায়
জানো সবে নিজ পরিচয়, করছ সবাই অভিনয় ।।

Re: ইসলামে আনুগত্য

২য় পর্ব

উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে যে বিষয়গুলো আমাদের সামনে আসে তা পয়েন্ট আকারে নিচে বর্ণনা করা হলঃ
1.    আনুগত্য-ফরজ - আল কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত সমূহ থেকে তা স্পষ্টভাবে বুঝা যাবে ।
قُلْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَالرَّسُولَ فإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ الْكَافِرِينَ 
অর্থঃ তাদেরকে বলোঃ আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করো৷  তারপর যদি তারা তোমাদের এ দাওয়াত গ্রহণ না করে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ এমন লোকদের ভালোবাসবেন না, যারা তাঁর ও তাঁর রসূলদের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে৷ (সুরা আলে ইমরান-৩২)
وَأَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَاحْذَرُواْ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُواْ أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلاَغُ الْمُبِينُ
অর্থঃ তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসূলের অনুগত হও এবং আত্মরক্ষা কর। কিন্তু যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে জেনে রাখ, আমার রসূলের দায়িত্ব প্রকাশ্য প্রচার বৈধ নয়। (সুরা মায়েদা-৯২)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَلاَ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنتُمْ تَسْمَعُونَ - وَلاَ تَكُونُواْ كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لاَ يَسْمَعُونَ -  إِنَّ شَرَّ الدَّوَابَّ عِندَ اللّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لاَ يَعْقِلُونَ
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না। আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা বলে যে, আমরা শুনেছি, অথচ তারা শোনেনা। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলার নিকট সমস্ত প্রাণীর তুলনায় তারাই মূক ও বধির, যারা উপলদ্ধি করে না। (সুরা আনফাল-২০-২২)


وَأَطِيعُواْ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَلاَ تَنَازَعُواْ فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُواْ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

অর্থঃ আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে। (সুরা আনফাল-৪৬)


فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
অর্থঃ অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। (সুরা আশ শুয়ারা - ৯ বার)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ
অর্থঃ হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের আমল ধ্বংস করো না৷ (সুরা মুহাম্মদ-৩৩)
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ
অর্থঃ আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রসূলের আনুগত্য করো৷ কিন্তু তোমরা যদি আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে সত্যকে স্পষ্টভাবে পৌঁছিয়ে দেয়া ছাড়া আমার রসুলের আর কোন দায়িত্ব নেই৷ (সুরা তাগাবুন-১২)

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ

অর্থঃ মু’মিন তো আসলে তারাই যারা অন্তর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে মানে এবং যখন কোন সামষ্টিক কাজে রসূলের সাথে থাকে তখন তার অনুমতি ছাড়া চলে যায় না  । যারা তোমার কাছে অনুমতি চায় তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাসী। (সুরা নূর-৬২)

2.    আনুগত্য হবে এক নেতারالأَمْر َأُوْلِي , একাধিক নেতার আনুগত্য কারোই আনুগত্য নয়
ইসলামের দৃষ্টিতে সমগ্র দেশ একটি মসজিদতুল্য, এখানে নেতা ( ইমাম থাকবেন ১ জন )
«مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللهَ، وَمَنْ أَطَاعَ أَمِيرِي فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي» Ibn Abi Hatim ,Abu Hurayrah
অর্থঃ (রাসুল সঃ বলেছেন ) যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে  প্রকৃতপক্ষে  আল্লাহর আনুগত্য করল আর  যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হল  সে  প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর অবাধ্য হল । আর যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করল সে  প্রকৃতপক্ষে  আমার আনুগত্য করল আর  যে ব্যক্তি আমীরের  অবাধ্য হল  সে  প্রকৃতপক্ষে আমার অবাধ্য হল ।
«مَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشَدَ، وَمَنْ يَعْصِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّهُ لَا يَضُرُّ إِلَّا نَفْسَه»

অর্থঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ রাসুলের ( সঃ) আনুগত্য করল সে  সৎপথ প্রপ্ত হল  আর  যে ব্যক্তি আল্লাহ রাসুলের ( সঃ) অবাধ্য হল  সে  প্রকৃতপক্ষে নিজেরই ধ্বংস ডেকে আনল ।

3.    আনুগত্য হবে নিঃশর্ত-
---শর্তযুক্ত আনুগত্য কোন আনুগত্য নয়

4.    আনুগত্য বাধ্যতামূলক, মন চাক আর না চাক-

«السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ، مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ، فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَة»
অর্থঃ নিজের নেতৃবৃন্দের কথা শোনা ও মেনে চলা মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য, তা তার পছন্দ হোক বা না হোক, যে পর্যন্ত না তাকে নাফরমানি হুকুম দেয়া হয়৷ আর যখন তাকে নাফরমানির হুকুম দেয়া হয় তখন তার কিছু শোনা ও আনুগত্য করা উচিত নয়৷ ( বুখারী ও মুসলিম)
5.    ইসলাম অবশ্য কখনো অন্ধ আনুগত্যের দাবী করেনি। বরং সে কেবল সৎকর্মের ক্ষেত্রে আনুগত্য চেয়েছে। ‘সৎকর্মেও’ সীমার বাইরে তার নির্দেশ হচ্ছেঃ
وَلاَ تَعـاَوَنـُوا عَـلَـىَ الاِثـمِ وَالـعُـدوَانِ-
অর্থঃ “গুনাহ ও আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘনমূলক কাজে পরস্পরের সহযোগী হয়ো না।”-সুরা মায়েদা, আয়াতঃ ২
6.    আনুগত্য নেতৃত্বের, ব্যক্তির নয় ।  ইসলামী আন্দোলন ব্যক্তিত্বের চর্তুদিকে আবর্তিত হয় না। ব্যক্তির পরিবর্তনে আনুগত্যের পরিবর্তন হয়না ।
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلاَّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِن مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَن يَنقَلِبْ عَلَىَ عَقِبَيْهِ فَلَن يَضُرَّ اللّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللّهُ الشَّاكِرِينَ
অর্থঃ মুহাম্মাদ একজন রসূল বৈ তো আর কিছুই নয়৷ তার আগে আরো অনেক রসূলও চলে গেছে৷ যদি সে মারা যায় বা নিহত হয়, তাহলে কি পেছনের দিকে ফিরে যাবে ? মনে রেখো, যে পেছনের দিকে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করবে না, তবে যারা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে থাকবে তাদেরকে তিনি পুরস্কৃত করবেন৷

সূরা আলে ইমরান, আয়াতঃ১৪৪
7.    আনুগত্যের বেলায় নেতার কেমন তা দেখা যাবেনা-
«اسْمَعُوا وَأَطِيعُوا، وَإِنْ أُمِّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌحَبَشِيٌّ كَأَنَّ رَأْسَهُ زَبِيبَة»
অর্থঃ (রাসুল সঃ বিদায় হজ্বের ভাষনে বলেছিলেন )যদি কোন হাবসী ক্রীতদাসকেও তোমাদের নেতা বানিয়ে দেয়া হয় যার মাথা কিসমিসের মত, তা হলেও তোমরা তার আনুগত্য কর । (বুখারী)
«وَلَوِ اسْتُعْمِلَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌيَقُودُكُمْ بِكِتَابِ اللهِ، اسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا»
অর্থঃ যদি কোন ক্রীতদাসকেও তোমাদের নেতা বানিয়ে দেয়া হয় আর সে যদি আল্লাহর কিতাব আনুসারে তোমাদের পারচালনা করে তা হলেও তোমরা তার কথা শোন ও আনুগত্য কর । (বুখারী)
«عَبْدًا حَبَشِيًّا مَجْدُوعًا»
অর্থঃ (রাসুল সঃ বিদায় হজ্বের ভাষনে বলেছিলেন )যদি কোন নাক কাটা হাবসী ক্রীতদাসকেও তোমাদের নেতা বানিয়ে দেয়া হয় তা হলেও তোমরা তার আনুগত্য কর । (সহীহাইন)
8.    আনুগত্য হবে পরিপূর্ণ, আংশিক নয়,
---আংশিক আনুগত্য কোন আনুগত্য নয়

9.    আনুগত্য হবে খোদাভীতি ও ন্যায় কাজের জন্য, অন্ধ আনুগত্য নয়- সুরা মায়েদা-২
وَتَعَاوَنُواْ عَلَى الْبرِّ وَالتَّقْوَى وَلاَ تَعَاوَنُواْ عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
অর্থঃ আল্লাহভীতির সমস্ত কাজে সবার সাথে সহযোগীতা করো এবং গুনাহ ও সীমালংঘনের কাজে কাউকে সহযোগীতা করো না৷

10.    মূলতঃ আনুগত্যই ইসলাম, ইসলাম অর্থই আনুগত্যই  اسلا م –سلم)
إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
অর্থঃ (হযরত ইবরাহীম ( আঃ) কে) যখন তার রব তাকে বললো, “মুসলিম হয়ে যাও ৷” তখনই সে বলে উঠলো, “আমি বিশ্ব-জাহানের প্রভুর ‘মুসলিম’ হয়ে গেলাম ৷ ” ( সূরা বাকারা ১৩১)
أَفَغَيْرَ دِينِ اللّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ
অর্থঃ এখন কি এরা আল্লাহর আনুগত্যের পথ ( আল্লাহর দীন ) ত্যাগ করে অন্য কোন পথের সন্ধান করছে ? অথচ আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহর হুকুমের অনুগত (মুসলিম)  এবং তাঁরই দিকে সবাইকে ফিরে যেতে হবে ( ষুরা ।আলে ইমরান-৮৩)
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ -  فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ -  فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِن شَاء اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ -فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ -  وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ -قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ -  إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْبَلَاء الْمُبِينُ
অর্থঃ হে পরওয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দাও৷ (এ দোয়ার জবাবে) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম৷ সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছুলো তখন (একদিন ইবরাহীম তাকে বললো, “ হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি যাবেহ করছি,এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?” সে বললো, “ হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন৷ শেষ পর্যন্ত যখন এরা দু’জন আনুগত্যের শির নত করে দিল এবং ইবরাহীম পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল৷ এবং আমি আওয়াজ দিলাম,“ হে ইবরাহীম!  তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে দিয়েছো৷ আমি সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি৷ নিশ্চিতভাবেই এটি ছিল একটি প্রকাশ পরীক্ষা৷ (সুরা সাফফাত-100-105-)

এ দুনিয়ার রঙ্গমঞ্চে কেউ হাসে আর কেউবা গায়
কেউবা কাঁদে চ্ছিন্নবস্ত্রে কেউবা স্বর্নের বিছানায়
কেউবা হাসে ফাঁসির মঞ্চে কেউবা বসে গাছতলায়
জানো সবে নিজ পরিচয়, করছ সবাই অভিনয় ।।

Re: ইসলামে আনুগত্য

৩য় পর্ব

11.পরিপূর্ণ আনুগত্যকারীই পরিপূর্ণ মুসলমান-
12. পরিপূর্ণ আনুগত্য করার জন্য সংগঠনের নেতার কাছে আনুগত্যের শপথের প্রয়োজন-
13. আনুগত্য হবে ঘোষিত, অঘোষিত আনুগত্য কোন আনুগত্য নয়
14. আনুগত্য পরিহারকারী ইসলাম পরিত্যাগকারীর সমতুল্য ।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন
انا امركم بخمس الله امرني بهن الجماعةُ و السمعُ و الطاعةُ والهجرهُ والجخادُ في سبيل الله, فانهُ من خرج من الجماعة قَدْرَ شبر فقد خلعَ ربقة الاسلام من عنقه الا ان يرَاجَعَ و من دعا بدعوَى الجاهليةِ فهو من جثى الجهنم- قالوا يا رسول الله و ان صام و صلى؟ قال و ان صام و صلى و زعم انه مسلم-
অর্থঃ “আল্লাহ আমাকে যে পাঁচটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন আমিও তোমাদেরকে তারই হুকুম দিচ্ছি। তা হলো-জামায়াত, নেতৃ-আদেশ শ্রবণ,আনুগত্য,হিজরত ও আল্লাহর পথে জিহাদ। যে ব্যক্তি ইসলামী জামায়াত ত্যাগ করে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে গেছে, সে যেন নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলেছে। অবশ্য যদি সে জামায়াতের দিকে পুনঃ প্রত্যাবর্তন করে, তবে স্বতন্ত্র কথা। আর যে ব্যাক্তি জাহিলিয়াতের দিকে (অর্থাৎ অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলার দিকে) আহবান জানাবে, সে হবে জাহান্নামী। (এতদশ্রবণে) সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল, নামায- রোযা আদায়করা সত্ত্বেও কি সে জাহান্নমী হবে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেনঃ (হাঁ) যদিও সে নাময-রোযা পালন করে এবং নিজেকে মুসলমান বলে দাবী করে (তাহলেও সে জাহান্নামী হবে )”
হযরত উমর ( রাঃ) বলেছেন
لا اسلام ال بجماعة و لا جماعة الا بامارة و لا امارة الا بطاعة (جامع بيان العلم لابن عبد البر(
অর্থঃ জামায়াত বিহীন ইসলামের কোন অস্তিত্ব নেই, আমীর ( নেতা) ছাড়া জামায়াত বা সংগঠন নেই, আর আনুগত্য ছাড়া আমীর ( নেতা) নেই ।
15. আনুগত্যকারীর হাসর হবে নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহ বান্দাদের সাথে ।
وَمَنۡ يُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّسُوۡلَ فَاُولٰٓٮِٕكَ مَعَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰهُ عَلَيۡهِمۡ مِّنَ النَّبِيّٖنَ وَالصِّدِّيۡقِيۡنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصّٰلِحِيۡنَ‌ؕ وَحَسُنَ اُولٰٓٮِٕكَ رَفِيۡقًاؕ
অর্থঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করবে সে তাদের সহযোগী হবে,যাদেরকে আল্লাহ পুরস্কৃত করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে ৷ মানুষ যাদের সংগ লাভ করতে পারে তাদের মধ্যে এরা কতই না চমৎকার সংগী৷ ( সূরা আন নিসা-৬৯)

16.   মোবাইল ফোন
মোবাইল ফোন বর্তমানে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম । উর্ধ্বতন দায়িত্বশীলগন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রায়ই অধঃস্তন দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করেন । কোন কোন সময় ব্যস্ততা, সাইলেন্ট করে রাখা, ঘুমে থাকা বা অন্য কোন কারণে মোবাইলঅধঃস্তন দায়িত্বশীল মোবাইল ফোন রিসিভ করতে পারেন না । এ অবস্থায় আনুগত্যের দাবী হল উর্ধ্বতন দায়িত্বশীলগন মোবাইল ফোনের ব্যাপারে আপনি যখনই অবগত হবেন তখনই রিটার্ন কল/মিস কলের মাধ্যমে দায়িত্বশীলের ডাকে সাড়া দেয়া ।  এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেনঃ
لَّا تَجۡعَلُوۡا دُعَآءَ الرَّسُوۡلِ بَيۡنَكُمۡ كَدُعَآءِ بَعۡضِكُمۡ بَعۡضًا‌ؕ
হে মুসলমানরা ! রসূলের আহবানকে তোমাদের মধ্যে পরস্পরের আহবানের মতো মনে করো না । সূরা নূর-৬৩

17. চিঠি, সার্কুলার, পরিকল্পনা, ঘোষনা, সংগঠনের সিস্টেম, সিদ্ধান্ত ও নিয়ম শৃঙ্খলার আনুগত্য

সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রেরিত চিঠি, সার্কুলার এবং যে কোন ঘোষনা ততটুকু আনুগত্যের দাবী রাখে, যতটুকু দাবী রাখে দায়িত্বশীলদের সরাসরি আনুগত্যের । সংগঠন পরিচালনার  সিস্টেম ও নিয়ম শৃঙ্খলার আনুগত্যে করা অবশ্য কর্তব্য ।

জনাব নাঈম সিদ্দকী তার ‘চরিত্র গঠনের মৌলিক উপাদান বইতে ‘আনুগত্য’ সম্পর্কে লিখেন-
কর্তৃত্ব ও আনুগত্য সম্পর্কে আরো বক্তব্য হচ্ছে এই যেঃ
ক. বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষ থেকে যে সমস্ত সার্কুলার ও নির্দেশনামা জারি করা হয় সাধারণত সেগুলির আনুগত্যের ব্যাপারে শরিয়ত নির্ধারিত অপরিহার্যতার অনুভূতি কিছুটা দুর্বল। এই সার্কুলার ও নির্দেশগুলিকে সম্ভবত অফিস-আদালতের মামুলি সার্কুলার মনে করা হয়। অথচ যখনই কোন সার্কুলার জারি করা হয় তার অবস্থা হয় ঠিক ‘আমর বিল মারুফ’ (সৎকর্মের আদেশ দান)-এর সমতুল্য। এ ব্যাপারে ‘উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্যকে অপরিহার্য গণ্য করা হয়েছে। সার্কুলারগুলির প্রতিটি শব্দ সম্পর্কে ভালভাবে চিন্তা করা উচিত এবং যে বন্দেগীর প্রেরণা নিয়ে শরয়িতের সমস্ত বিধি-নিষেধ পালন করা হয় সেই প্রেরনা সহকারে যথাসময়ে সেগুলিকে কার্যকরী করার জন্য নিজের সমগ্র শক্তি নিয়োগ করা উচিত।
খ. সভায় উপস্থিতির জন্য যে সময় নির্ধারিত করা হয়, কোন ডিউটিতে পৌছাবার জন্য যে সময়-কাল স্থিরীকৃত হয়, অনুরুপভাবে কোন সংবাদ বা রিপোর্ট পৌছাবার বা কোন হুকুম তামিল করার জন্য যে পদ্ধতি বা সময় নির্ধারিত হয়, তা যথাযথভাবে মেনে চলার যোগ্যতা এখনো আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় নি।
লোকেরা এখনো এ দায়িত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না যে, তাদের প্রত্যেকেই একটি ঘূর্ণায়মান মেশিনের কলকব্জা স্বরূপ এবং প্রতিটি কলকব্জা যদি নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে বিলম্ব করে অথবা অনিয়ম করে তাহলে সমগ্র মেশিনটাই যথাসময়ে কাজ করতে ব্যর্থ হবে। এ পঙ্গুত্বসহ আমরা কোন বড় অভিযানে সফল হতে পারবো না। কাজেই আমাদের প্রত্যেকেরই সংগঠন-মেশিনের কলকব্জার ন্যায় যথা নিয়মে কাজ করার জন্য নিজেদেরকে তৈরী করা উচিত।
গ. কর্তৃত্ব ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থার আনুগত্যে ত্রুটি-বিচ্যুতি যে একটি গোনাহর শামিল উপরের আলোচনায় এ কথা সুস্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এজন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আমাদেরকে জবাবদিহী করতে হবে। কিন্তু মনে হয়, এ ধরণের ত্রুটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করলে সহযোগীরা কিছুটা লজ্জিত হয় ঠিকই, তবে এ জন্য তাদের মধ্যে সাধারণভাবে যে ধরণের গুনাহর অনুভূতি হওয়া দরকার তা হয় না। দলীয় শৃঙ্খলার আনুগত্যে ত্রুটি করা-মিথ্যা বলা, কাউকে গালি দেয়া, ওয়াদা ভঙ্গ করা, কারুর অধিকার আত্মসাৎ করা, চুরি করা, গীবত করা, মিথ্যা সাক্ষী দেয়া এবং এ ধরণের অন্যান্য বড় বড় অপরাধের চাইতে কম পর্যায়ের নয়। কিন্তু বড়ই আশ্চ্যর্য ব্যাপার ব্যক্তিগত চরিত্রের নীতি বিরোধী উপরোল্লেখিত কাজগুলি করার সঙ্গে সঙ্গেই মনে খটকা লাগে এবং আল্লাহর নিকট তওবা ও ইস্তেগফার করার প্রেরণা জাগে, অথচ দলীয় চরিত্রনীতি বিধ্বস্ত হবার পর এমন গোনাহগারীর কোন অনুতাপের ভাব মনের মধ্যে সৃষ্টি হয় না যার ফলে সঙ্গে সঙ্গেই তওবা ও ইস্তেগফার করে নিজের কার্যাবলী সংশোধন ও ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে।
দলীয় চরিত্রের মূল্য ব্যক্তিগত চরিত্রের চাইতে অনেক বেশী। এ জন্যই দলীয় চরিত্রে দুর্বলতার প্রকাশ বৃহত্তর গোনাহ। আমাদের সহযোগীদের এ বিষযটি অনুভব করা উচিত। আরো যদি সংগঠন কর্তৃক অর্পিত কোন দায়িত্ব সম্পাদন করতে, কোন কাজের জন্য সময় বের করতে, কোন নির্দিষ্ট স্থানে যথাসময়ে পৌঁছতে অথবা অন্যদিকে দায়িত্বশীলদের অধিকার আদায় করতে, তাঁদের কল্যাণ কামনার দাবী পূরণ করতে, সঠিক সমালোচনা পদ্ধতি অবলম্বন করতে, পরামর্শ ও তথ্যদান করতে, গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার আদায় করতে বা দায়িত্বশীলদের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে কোন প্রকার ত্রুটি করে; তাহলে এমনি ধরণের প্রত্যেকটি ত্রুটির পর আমাদের মনে চরম লজ্জানুভূতি সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন। এমন লজ্জানুভূতি সৃষ্টি হবে যা আমাদের তওবা ইস্তেগফারের দিকে ঝুঁকিয়ে দিবে, রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে আমাদের দীনতার শির নত করে দিবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃত্বশীল বা সহযোগীদের নিকট ওজর পেশ করা ও ক্ষমা চাওয়ার জন্য আমাদের মধ্যে অধিকতর কর্মতৎপরতা সৃষ্টি করবে এবং আমাদের আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করার প্রেরণা জাগাবে।

আমাদের মধ্যে এ গুণ সৃষ্টি না হলে ইসলাম নির্ধারিত পথে নিজেদের সংগঠন ও শৃঙ্খলার বিকাশ সাধনও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
ঘ. কর্তৃত্ব ও আনুগত্যের উপরোল্লেখিত দাবীসমূহ পূরণ করার জন্য নিছক আবেদন বা কতিপয় গণতান্ত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক ধারা যথেষ্ট নয়। বরং একমাত্র সহযোগীদের দায়িত্বানুভূতিই এ দাবীগুলির পূর্ণতার ধারক হতে পারে। যদি প্রত্যেক সহযোগী আন্দোলনের সাথে সম্পর্ক কায়েম করে মু’মনিদেরকে সাক্ষী রেখে আল্লাহর নিকট যে অঙ্গীকার করেছে তা সব সময় মনের মধ্যে জাগরুক রাখে, তাহলে তাদের মাঝে এ দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত থাকতে পারে। এই অনুভূতির তাগিদে প্রত্যেক সহযোগীকে এ কথা মনে রাখা দরকার যে, সংগঠন শৃঙ্খলা হচ্ছে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে একটি আমানত এবং তার সাথীদের ন্যায় তাকেও এর প্রহরায় ও রক্ষনাবেক্ষনে নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি মহামূল্যবান আমানত। এই আমানতটিকে অস্তিত্ব দান করার জন্য ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে হাজার হাজার শক্তি কাজ করেছে এবং এর পিছনে বহু চিন্তা-গবেষণা, শ্রম, অর্থ, নিদ্রাহীনতা, প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও ত্যাগ রয়েছে। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি এই শৃঙ্খলায় কোন প্রকার দুর্বলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাহলে তার হস্তপে থেকে এ আমানতকে রক্ষা করা প্রত্যেক সহযোগীর প্রাথমিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সম্পাদনে যারাই ত্রুটি করবে তারাই সেই পাহারাদারের ভূমিকা গ্রহণ করবে নিজের কাজে ফাঁকি দেয়।
কাজেই সহযোগীদের উচিত এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং এমন একটি ঐতিহ্য সৃষ্টি করার জন্য অবিশ্রাম প্রচেষ্টা চালানো, যার ফলে শৃঙ্খলার উপর প্রভাব বিস্তারকারী কোন ক্ষতিকর বস্তু মাথা উচু করতে না পারে। আর কোন অপ্রীতিকর বস্তু মাথা উঁচু করলেও যেখানে মাথা উঁচু করে সেখানেই যেন তাকে ভালভাবে দাবিয়ে দেয়া যায়। একমাত্র এ পদ্ধতিতেই কর্তৃত্বশালী ও আনুগত্যকারীরা স্ব স্ব স্থানে অবস্থান করে কুরআন ও সুন্নাহর দাবী অনুযায়ী অগ্রসর হতে পারে।

18. আনুগত্যের জন্য আনুগত্যের শপথের (বাইয়াতের)প্রয়োজন
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থঃ হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, জারজ সন্তানকে স্বামীর ঔরস থেকে আপন গর্ভজাত সন্তান বলে মিথ্যা দাবী করবে না এবং ভাল কাজে আপনার অবাধ্যতা করবে না, তখন তাদের আনুগত্য গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল অত্যন্ত দয়ালু।  (সুরা মুমতাহিনা-১২)
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا 
অর্থঃ যারা আপনার কাছে করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন। (সুরা নূর-১০)

لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا
অর্থঃ আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন। (সুরা নূর-১৮)

(নবী করীম (সঃ)-এর সময়ে শুধু তারাই মুসলিম বলে গন্য হতেন যারা নবীর জামায়াতে শরীক হয়ে নবীর নিকট বা তাঁর প্রতিনিধির নিকট বাইয়াত হতেন।ঐ জামায়াতের বাইরে থাকলে মুসলিম বলে গন্যই হতো না। - ইকামতে দ্বীন)

আকাবার প্রথম শপথ
পরবর্তী বছর মদিনার বারোজন অধিবাসী আকাবা নামক স্থানে হযরত(সা:)-এর খেদমতে উপস্থিত হলো। তারা হযরত(সা:)-এর হাতে হাত দিয়ে ছ’টি মৌল বিষয়ে আনুগত্যের শপথ(বাইয়াত) গ্রহণ করলো। হযরত(সা:) মাসয়াব বিন উমাইর(রা:)-কে তাদের সাথে মদিনায় প্রেরণ করলেন। তিনি মদিনার ঘরে ঘরে গিয়ে লোকদের কে কুরআন পড়ে শোনাতেন এবং ইসলামের দাওয়াত পেশ করতেন।এভাবে দু’একজন করে লোক ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো। ক্রমান্বয়ে মদিনার বাইরেও ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। আওস গোত্রের প্রধান হযরত সা’দ বিন মা’আজও হযরত মাসয়াবের হাতে ইসলাম গ্রহণ করলেন। তার ইসলাম গ্রহণ ছিল গোটা আওস গোত্রেরই ইসলাম গ্রহণের শামিল।

আকাবার দ্বিতীয় শপথ
এর পরবর্তী বছর হজ্ব উপলক্ষ্যে মদীনা থেকে বাহাত্তর জন অধিবাসী মক্কায় এল। তারা অন্য সঙ্গীদের থেকে লুকিয়ে আকাবা গিয়ে হযরত (স) এর হাতে ইসলাম কবুল করলেন এবং যেকোন অবস্থায় ইসলামী আন্দোলনের সাথে সহযোগিতা করার জন্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হল। হযরত (স) এর এই দলটির মধ্য থেকে বার ব্যাক্তিকে বেছে নিয়ে নকিব (নেতা) নিযুক্ত করলেন। এদের মধ্যে নয়জন ছিল খাযরাজ গোত্রের এবং বাকি তিনজন আওস গোত্রের। হযরত (স) পূর্বোক্তদের মতো এদের কাছ থেকে ও নিম্নোক্ত প্রতিজ্ঞাসমূহ গ্রহণ করলেনঃ
১. এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো দাসত্ব করবো না।
২. চৌর্যবৃত্তির প্রশ্রয় দেবো না।
৩. ব্যভিচারে লিপ্ত হবো না।
৪. আপন সন্তানদের হত্যা করবো না।
৫. কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেবো না।
৬. রাসূলুল্লাহ (স) দেয়া সুকৃতির আদেশ কখনও অমান্য করবোনা।
শপথের পর হযরত (স) বললেন, ‘যদি তোমরা এই শর্তগুলি পালন করো, তাহলে তোমাদের জন্যে বেহেশতের সুসংবাদ। নচেত তোমাদের ব্যাপার সম্পূর্ণ খোদার হাতে নিবদ্ধ। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদের মাফ করেও দিতে পারেন অথবা শাস্তি দানও করতে পারেন।’
এ লোকগুলো যখন শপথ করছিলেন, তখন সাদ বিন জারারাহ দাড়িয়ে বললেনঃ “ভাই সব! তোমরা কি জানো, কি কথার উপর তোমরা শপথ গ্রহণ করছো? জেনে রাখো, এ হচ্ছে গোটা আরব ও আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। সকলে সমস্বরে বলল, হ্যাঁ, আমারা সবকিছু সবকিছু বুঝে শুনেই শপথ করছি। প্রতিনিধি দলের আরো কয়েকজন সদস্য এধরনের জোরালো বক্তৃতা প্রদান করেন। ঠিক এ সময়ে মদীনার এই সব নওমুসলিম এবং হযরত (স) এর মধ্যে স্থিরিকৃত হয় যে, কোনো সময় যদি হযরত (স) মদীনায় গমন করেন তো মদীনা বাসী সর্বতভাবে তার সাহায্য সহযোগীতা করবে। এসময় বারাআ (রা) বলেন যে, আমরা তরবারীর কোলে লালিত হচ্ছি।
19. আনুগত্যের উদাহরণঃ
(১) হযরত আবুবকরের আনুগত্যঃ
মহানবীকে (সাঃ) আল্লাহতায়ালার মদীনায় হিজরত করার নির্দেশ দানের পরই তিনি হযরত আবু বকরকে (রাঃ)  বলেছিলেন, ‘হে আবুবকর মক্কার কাফেলারা বড়ই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। কবে কখন হয়ত মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করতে হতে পারে’। হিজরতের রাতে মহানবী (সাঃ) নিজ বিছানায় হযরত আলী (রাঃ) কে শায়িত রেখে মদীনার পথে রওনা দিলেন। সাথী হিসেবে বন্ধু আবু বকর (রাঃ) কে সঙ্গে নেয়ার জন্য তাঁর বাড়ীর সামনে গিয়ে, আবু বকর! বলে একবার ডাক দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আবু বকর (রাঃ) বেরিয়ে এলেন। এত তাড়াতাড়ি কিভাবে এলে? জিজ্ঞাসা করলেন হযরত (সাঃ)। আবু বকর (রাঃ)বললেন যেদিন আপনি  মদীনায় হিজরত করার কথা বলেছিলেন সেদিন হতে একটি রাতের জন্যও আমি বালিশে মাথা রেখে ঘুমাই নাই, সারা রাত দরজার সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি  । কারণ আমি আরাম করে ঘুমিয়ে থাকবো আর কাফেরেরা আপনাকে ধাওয়া করবে আপনি আমাকে ডেকে ডেকে পাবেন না। কাফেরেরা আপনাকে আঘাত করবে, যখম করবে। আমি আবু বকর এটা সইতে পারবো না।
(২) হযরত খালিদ ইবনে অলীদের আনুগত্যঃ
৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে খলীফা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুর নেতৃত্বে সাত হাজার মুজাহিদসহ সিরিয়া অভিযানে প্রেরণ করেন। ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের ২৩ আগস্ট মুতাবিক ১৩ হিজরীর ২২ জমাদিউসসানী ৬১ বছর বয়সে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু ইন্তিকাল করেন । হযরত ‘উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু  যখন খিলাফতের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন তখন মুসলিম বাহিনী ও সিরীয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলছিল। খিলাফতের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেই যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় হযরত ‘উমর রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত আবূ ‘উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুকে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুর স্থলে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করেন। হযরত খালিদ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু সঙ্গে সঙ্গে আবু ‘উবায়দা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুর নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন।
(৩) হযরত আবু জান্দালের আনুগত্যঃ
হুদায়বিয়া সন্ধিপত্র যখন লিখিত হচ্ছিলো, ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটনাচক্রে সুহাইলের পুত্র হযরত আবু জান্দাল (সা) মক্কা থেকে পালিয়ে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি শৃংখলিত অবস্থায় মুসলমানদের সামনে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন এবং সবাইকে নিজের দুর্গতির কথা শোনালেন। তাঁকে ইসলাম গ্রহণের অপরাধে কি কি ধরণের শাস্তি দেয়া হয়েছে, তা-ও সবিস্তারে খুলে বললেন। অবশেষে তিনি হযরত (স)-এর কাছে আবেদন জানালেন : ‘হুযুর আমাকে কাফিরদের কবল থেকেকে মুক্ত করে আপনার সঙ্গে নিয়ে চলুন ।’ একথা শুনে সুহাইল বলে উঠলো : ‘দেখুন, সন্ধির শর্ত নিয়ে যেতে পারেন না।’ কারণ সন্ধির একটি শর্ত ছিল “কাফির বা মুসলমানদের মধ্য থেকে কেউ মদীনায় গেলে তাকে ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু কোনো মুসলমান মক্কায় গেলে তাকে ফেরত দেয়া হবে না” ।  এটা ছিলো বাস্তবিকই এক নাজুক সময়। কারণ, আবু জান্দাল ইসলাম গ্রহণ করে নির্যাতন ভোগ করছিলেন এবং বারবার ফরিয়াদ জানাচ্ছিলেন : ‘হে মুসলিম ভাইগণ! তোমরা কি আমাকে আবার কাফিরদের হাতে তুলে দিতে চাও?’ সমস্ত মুসলমান এই পরিস্তিতিতে অত্যন্ত অস্থির হয়ে উঠলো। হযরত উমর (রা) তো রাসূলুল্লাহ (স)-কে এ পর্যন্ত বললেন যে, ‘আপনি যখন আল্লাহর সত্য নবী, তখন আর আমরা এ অপমান কেন সইব? হযরত (স) তাকে বললেন : ‘আমি খোদার পয়গাম্বর, তাঁর হুকুমের নাফরমানী আমি করতে পারিন না। খোদা-ই আমায় সাহায্য করবেন।’
মোটকথা, সন্ধি-চুক্তি সম্পাদিত হলো। সন্ধির শর্ত মুতাবেক আবু জান্দালকে ফিরে যেতে হলো। এভাবে ইসলামের পথে জীবন উৎসর্গকারীরা রাসূলের আনুগত্যের এক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। একদিকে ছিলো দৃশ্যত ইসলামের অবমাননা ও হযরত আবু জান্দালের শোচনীয় দুর্গতি আর অন্যদিকে ছিলো রাসূলুল্লাহ (স) -এর নিরংকুশ আনুগত্যের প্রশ্ন।
হযরত (স) আবু জান্দালকে বললেন : ‘আবু জান্দাল! ধৈয্য ও সংযমের সাথে কাজ করো। খোদা তোমার এবং অন্যান্য মজলুমের জন্যে কোনো রাস্তা বের করে দিবেনই। সন্ধি-চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গেছে। কাজেই আমরা তাদের তাদের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করতে পারি না।’ তাই আবু জান্দালকে সেই শৃংখলিত অবস্থায়ই ফিরে যেতে হলো।

(৪) তাবুকের যুদ্ধে অলসতা ও গাফলতির কারণ অংশগ্রহণ না করা তিন জন সাহাবী কাব ইবনে মালেক,হিলাল ইবনে উমাইয়াহ এবং মুরারাহ ইবনে রুবাইর ৪০ দিন সামাজিক বয়কোটের সময়ে (ক) তাদের আনুগত্য (খ) সমগ্র সাহাবীদের আনুগত্য (গ) পরবর্তী ১০দিন তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার নির্দেশে পরিবারের আনুগত্য পরবর্তী বংশধর হিসাবে আমাদের কাছে উদাহরণ ও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

20. আনুগত্যহীনতার কারণঃ
(১)আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে অগ্রাধিকার দেয়া
(২)আনুগত্যের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞতাঃ
(৩)গর্ব ও অহংকার
(৪)হিংসা ও বিদ্বেষ
(৫)সিনিয়রিটি জুনিয়রিটি মনোভাব ( বয়স, লেখাপড়া, সংগঠনে অর্ন্তূক্তি ইত্যাদি)
(৬)মেজাজের ভারসাম্যহীনতা
(৭)পদের প্রতি মোহ
(৮)দায়িত্বশীল পছন্দ না হওয়া
(৯)মানোন্ননে বিলম্ব হওয়া
(১০)দায়িত্বশীলের সাথে তিক্ত সম্পর্ক
(১১)দায়িত্বশীলের ব্যাপারে সন্দেহ  প্রবনতা
(১২)মতামতের কুরবানী করতে না পারা
(১৩)হৃদয়ের বক্রতা
(১৪)মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্ন করার প্রবনতা
(১৫)নিজেকে অন্যের  চেয়ে যোগ্য  মনে করা
(১৬)সুযোগ সন্ধানী/ জাগতিক লাভের মনোভাব
(১৭)দায়িত্ব থেকে অব্যহিত বা লঘু দায়িত্ব অর্পণ

21. আনুগত্যহীনতার পরিনাম
আনুগত্য পরিহারকারী দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তির  হকদার।
فَلۡيَحۡذَرِ الَّذِيۡنَ يُخَالِفُوۡنَ عَنۡ اَمۡرِهٖۤ اَنۡ تُصِيۡبَهُمۡ فِتۡنَةٌ اَوۡ يُصِيۡبَهُمۡ عَذَابٌ اَلِيۡمٌ
অর্থঃ রসূলের হুকুমের বিরুদ্ধাচারণকারীদের ভয় করা উচিত যেন তারা কোন বিপর্যয়ের শিকার না হয়   অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব না এসে পড়ে । (সূরা নূর-৬৩)


তথ্য সূত্রঃ
(ক) তাফহীমুল কুরআন,
(খ) মা’রেফুল কুরআন
(গ) চরিত্র গঠনের মৌলিক উপাদান
(ঘ) ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন
(ঙ) ইসলামী সংগঠনে আনুগত্য, পরামর্শ ও ইহতিসাব

Last edited by আনসারুল্লাহ (2010-06-15 11:56:33)

এ দুনিয়ার রঙ্গমঞ্চে কেউ হাসে আর কেউবা গায়
কেউবা কাঁদে চ্ছিন্নবস্ত্রে কেউবা স্বর্নের বিছানায়
কেউবা হাসে ফাঁসির মঞ্চে কেউবা বসে গাছতলায়
জানো সবে নিজ পরিচয়, করছ সবাই অভিনয় ।।