Topic: বিশ্বকাপ নিয়ে অতি উন্মাদনা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

দেশ এতদিন বিশ্বকাপের জ্বরে থরথর করে কাঁপছিল। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দু'দলের পরাজয়ের পর সে জ্বর প্রশমিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে আমি বিশ্বকাপ দেখা বা এটা নিয়ে আনন্দ করার ব্যাপারে সাধারণভাবে কোন বিরোধ পোষণ করছিনা। কিন্তু এটা নিয়ে আমি গত কয়েকদিনে যে প্রচন্ড রকম বাড়াবাড়ি দেখেছি চারপাশে তাকে আমি পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে করতে পারছিনা। এ বাড়াবাড়ির পেছনে কারণ কি তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম। একটি জাতির মানুষ যখন গোষ্ঠীগত বা সংঘবদ্ধভাবে কোন নির্দিষ্ট আচরণ করে তখন তাদের সে আচরণের ভৌগলিক বা আর্থসামাজিক একটি দিক থাকে। আব্দুল্লাহ আবু সাইদ তার 'বাঙালি ও সংগঠন' বইতে বাঙালির সংগঠন বিমুখতার আর্থ সামাজিক কারণ বিশ্লেষণ করেছেন। এ বইটির কোন একজায়গায় তিনি, বাস বা গাড়ীর চালকেরা কেন কেউ কাউকে সাইড দিতে চায়না, কেন উগ্রভাবে আরেকজনকে ওভারটেক করে দ্রুত আগে এগিয়ে যেতে চায়, কার আগে কে যাবে এ নিয়ে যুদ্ধংদেহী একটা ভাব কেন সবসময় থাকে সে সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেছেন লোকদের মধ্যে সবসময় না পাওয়ার, বঞ্চিত হবার একটা যে জ্বালা কাজ করে সেটাই কোন একটা কিছু পাওয়ার কোন একটা কিছুতে বিজয়ী হবার উগ্রতা সৃষ্টি করে। আর এজন্যই এমন তাড়াহুড়া, উগ্রতা। ঠিক এভাবেই চিন্তা করলে হয়ত বিশ্বকাপ নিয়ে অতি উন্মাদনা বা হুজুগের পেছনেও কোন না কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে।

প্রথম অনিবার্য কারণটি হলো আমাদের অফুরন্ত সময় রয়েছে এবং কর্মক্ষম মানুষের এত অফুরন্ত সময় থাকাটা অবশ্যই কোন ভাল ইংগিত হতে পারেনা। তার মানে আমরা কর্মক্ষম মানুষগুলোকে কাজ দিতে পারছিনা। আবার অনেকে হয়ত অলসতার কারণে নিজে থেকেও কোন কাজে প্রবৃত্ত হচ্ছেননা। এ দু'টির কোনটিই ভাল কথা নয়। অন্যদিকে যারা কিশোর তরুন তারা যে কোন ব্যাপারে খুবই উৎসাহী। কিন্তু তাদের উৎসাহকে কোন গঠনমূলকাজে নিয়োজিত করা যাচছেনা। যেমন আমাদের সমাজে নিরক্ষরতা, পরিবেশ, বখাটেপনা, ধূমপান, মাদক, নৈতিক অবক্ষয় ইত্যাদি সমস্যা মোকাবেলায় যুবক-তরুণদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কর্মস্পৃহাকে ব্যস্ত করা যাচেছনা। এলাকা পর্যায়ে সবাই আড্ডা দিচ্ছে, একসাথে বিশ্বকাপের উন্মাদনা বা হুজুগে গা ভাসিয়ে এক মাইল লম্বা পতাকা তৈরি করছে। কিন্তু সংঘশক্তি আর উৎসাহ-উদ্দীপনাকে অন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে ব্যবহার করছেনা দিক নির্দেশনার অভাবে। কোনো কিশোর নিজেই নিজেই হুজুগে গা ভাসাতে শিখছে না। বরং তার পরিবার ও আশে পাশের পরিবেশ তাকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করছে। এক্ষেত্রে আমাদের সন্তানদেরকে কিশোর-তরুণদেরকে কোন দিকে উৎসাহিত করব সে বিচার অভিভাবকদের, সমাজের কর্তাব্যক্তিদের অবশ্যই করতে হবে।

যেখানে নিজেদের দেশ বিশ্বকাপে নেই এবং যাবার কোন দূরবর্তী সম্ভাবনা নেই সেখানে বিশ্বকাপ নিয়ে এ অস্বাভাবিক মাত্রার অতি উন্মাদনাকে কেবল হুজুগ বলে চালিয়ে দিতে পারছিনা। আমাদের সবাইকে এ বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত।

সবকিছুর মূল হচেছ তাওহীদ। তাওহীদের ভিত্তিতে জীবনটাকে ইন্টিগ্রেট করতে হবে।
"With the muslim, God is indeed a sublime obsession" - Dr Ismail Raji al Faruqi
http://adams-son.blogspot.com/

Re: বিশ্বকাপ নিয়ে অতি উন্মাদনা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

শাকিল লিখেছেন:

যেখানে নিজেদের দেশ বিশ্বকাপে নেই এবং যাবার কোন দূরবর্তী সম্ভাবনা নেই সেখানে বিশ্বকাপ নিয়ে এ অস্বাভাবিক মাত্রার অতি উন্মাদনাকে কেবল হুজুগ বলে চালিয়ে দিতে পারছিনা। আমাদের সবাইকে এ বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত।

সম্পূর্ন একমত