Topic: ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের যৌবনের গান প্রবন্ধটি আধুনিকতার এই যুগেও আমাকে প্রবল ভাবে নাড়া দেয়। আসলে ঐ প্রবন্ধটি কোন লেখা প্রবন্ধ নয়। সে সময়কার মুসলিম যুবকদের উদ্দেশ্য করে এটি ছিল তার দেয়া এক যুগান্তকারি ভাষন। সেই ভাষনটিই পরবর্তীতে আমাদের কলেজের বাংলা পাঠ্য বইয়ে একটি প্রবন্ধ আকারে পড়ানো হতো। তার সেই ভাষনে তিনি যৌবনকে যেভাবে সংগায়ীত করেছিলেন তাতে আজও বোধকরি মানুষের চোখ কপালে উঠে যাবার যোগাড়। যৌবনের পাশাপাশি তিনি বার্ধক্যের চেহারাও উন্মোচন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন বার্ধক্য বা যৌবন কোনটাই বয়সের ফ্রেমে আটকানোর মত জিনিস নয়। স্বল্প বয়সি একজন যুবকও বার্ধক্যের জরাযির্ন খোলসে আটকা পড়ে যেতে পারে আবার সত্তরের একজন বৃদ্ধও হতে পারেন যৌবনের তাগড়া ঘোড়ার সওয়ারী। যৌবন কখনও নবাগতের আগমনে ভড়কে যায় না, নতুন কে জয় করে নিয়েই তার পরিতৃপ্তি। অন্যদিকে বার্ধক্য সর্বদাই পুরাতনে আঁকড়ে থাকে, পরিবর্তনের ভয়ে সে সদা সংকিত। কবির কথা গুলোকে পুঁজি করে আমি আজ পার্থক্য করতে পারি কে বার্ধ্যক্যের রোগে আক্রান্ত আর কে যৌবনের ঢেউয়ের মিত্র। আমাদের মুসলিম সমাজে যারা ধার্মিক এবং যারা ধর্ম তথা মানব জীবনের পরিপুর্ন রুপরেখা ইসলামকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট তারা কেন জানি বার বার বার্ধ্যক্যের খুপরিতে আছড়ে পড়েন। তাদের অধিকাংশই নতুনের সাথে মিতালিতে হয়তো অপরাগ নয়তো নারাজ। এদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারাও বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন। এটাকে আমি আপাদত তাদের খামখেয়ালিপনা বা এক ঘুয়েমিই বলবো। আর যুগে যুগে তাদের এই খামখেয়ালিপনা বা এক ঘুয়েমিই আমাদের কে জাত শুদ্ধ হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে যখন ইংরেজরা এল তখন এ তল্লাটের শিক্ষা দিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হয়ে গেল। তখন আমাদের আমেল ওলামা গন ইংরেজি শিক্ষাকে হারাম ঘোষনা করে মুসলিম উম্মাহ কে সহস্র বছর দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন। আর অন্যদিকে জাত কুলহীন হিন্দুরা ইংরেজি শিক্ষাকে মেনে নিয়ে চলে গেল চালকের আসনে। তখনকার ওলামাগন কি জানতেন না যে একজন মুসলিম শিশুর জন্য সর্বোত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটা হল তার মায়ের কোল? তারা হয়তো অসম্ভব কেতাবি জ্ঞানের জ্ঞানী ছিলেন, এবং সুশিক্ষিতও ছিলেন, কিন্তু তারা কতটা স্বশিক্ষিত এবং সুদুর প্রসারি দৃষ্টির অধীকারি ছিলেন তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ থাকার অবকাশ আছে। তা না হলে মেয়েদের সু শিক্ষিত করার ব্যপারে প্রায় সমগ্র মুসলিম সমাজের যে উদাশীনতা তখন ছিল তার ব্যক্ষা কি দাঁড়াবে?

কথায় আছে চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে, আমাদেরও ভালোই বুদ্ধি বেড়েছে, তবে সেটা চোর চলে যাবার পরে, আগে নয়। আমরা এখন ইংরেজি পড়ি, ইংরেজি বলি, ইংরেজিতে শিক্ষিতও হই। শুধু তাই নয় আধুনিক কালের ইসলামিক গবেষনাগুলো আমরা ঐ হারাম ভাষা ইংরেজিতেই করছি। চৌদ্দশত বছর আগে অহির দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পরে, অহি ছাড়াই কিভাবে ইংরেজি হারাম থেকে হালালে পরিনত হল তা আমার বুঝে আসে না। এবং এই হালালিকরনটা কেন প্রাথমিক পর্যায়েই হলনা তাও আমি বুঝি না। তবে এই ইতিহাস থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে আমাদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারা বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন।

এর পর এল টিভি, ঐ বক্সের সামনে দাঁড়ানো যে একসময় মোটেই হালাল ছিলো না তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন নাস্তিক পন্থি মিডিয়ার তুমুল মিথ্যে প্রপাগান্ডার জবাব দিতে আমরা ইসলামিক টিভি চ্যানেল খুলে বসেছি। এভাবে অনেক হারাম এখন হালাল হয়েছে। তবে সেটা এমন নয় যে নিরেট হারাম কে হালালে পরিনত করা হয়েছে। যেটা করা হয়েছে সেটা হল বিভিন্ন নতুন আবিষ্কারকে প্রথমে হারাম বলে দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে, পরে আবার সেই দূরে ঠেলে দেয়া জিনিসটিকে ভালোকাজে ব্যবহারের উপযুক্ত বলে বুঝে উঠার পর গ্রহন করেন নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বুঝে উঠার মাঝখানে সময় নেয়া হয়েছে অনেক অনেক যুগের। সে সময়ের মধ্যে ধংশের তলানিতে পৌছেছে পুরো উম্মত।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের ছড়াছড়ি পৃথীবির আনাচে কানাচে। যুবসমাজ অগনিত মুল্যবান সময় নষ্ট করছে এই ইন্টারনেটে। ব্লগিং, গুগলিং, ইউটিউব, টুইটারিং, চ্যাটিং, ফেসবুকিং, ফ্রেন্ডস্টার, হাই ফাইভ, ইমেইল, উইকিপিডিয়া, আপ্লোডিং এবং ডাউন লোডিং এগুলো নিয়েই চলছে কিশোর যুবক এমনকি বৃদ্ধদেরও সারাটা দিন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন ছেলে-পেলে শুধুমাত্র বিনোদন করতে ইন্টারনেটে পড়ে থাকায় তাদের নৈতিক মানের অবনতি হচ্ছে। আর তাই ইসলামি আন্দোলনের সাথী ও বন্ধুদের এই সকল বেহুদা কাজ থেকে দূরে থেকে প্রচুর পরিমানে দাওয়াতি কাজ ও কোরান হাদীস অধ্যায়ন করা জরুরী। আমি তাদের সাথে মাত্র চার আনা একমত আর বাকি বারো আনাই অন্যমত।

আমি বরং বলতে চাই আমাদের দাওয়াতি কাজে অংশ গ্রহন কারী দল গুলোর বৃহদাংশের উচিৎ ইন্টার নেটে প্রচুর পরিমানে সময় দিয়ে বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে ইসলামি রাজনীতি তথা ইসলামী আন্দোলনের ব্যপারে সুন্দর ও গঠন মুলক তথ্য উপাত্ত ছড়িয়ে দেয়া। কারন যে কেউ যখন এ ব্যপারে গুগলে বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দেয় তখন বিভিন্ন নেতি বাচক তথ্য উপাত্য এবং মিথ্যা ইনফরমেশন গুলো বেশি আসে। এর কারন হল, বাংলাদেশের বাম পন্থী ও সেকুলার আন্দোলনের কর্মীরা প্রায় কয়েক যুগ ধরে ইন্টারনেটে এসব তথ্যাদি আপ্লোড করে আসছে। আজ এমন সময়ে এই মিথ্যা ইনফরমেশনের পরিমান এত বেশী হয়ে দাড়িয়েছে যে আগামী বিশ বছরও যদি ওরা চুপ করে বসে আর আমরা যদি বিরাম হীন ইসলামের ব্যপারে সত্য ইনফরমেশন আপ্লোড করতে থাকি তাতেও তাদের কিঞ্চিৎ পরিমানও কোন সমস্যা হবে না। বরং আমরাও জোযন জোযন দূরে পড়ে থাকবো।

কিন্তু তাই বলে কি তারা থেমে আছে? না বরং তারা আরও তুমুল গতি তে এগিয়ে চলছে। ইন্টারনেটে বাংলায় যে কয়টা ব্লগ আছে তার নব্বই ভাগ ব্লগই নাস্তিক ও বাম পন্থীদের পরিচালিত। সেসকল ব্লগে যদি কেউ ইসলামি মুল্যবোধ নিয়ে কোন পোস্ট করেন তাহলে মুহুর্তের মধ্যেই মাইনাস রেটিং পড়তে থাকে। অসম্বভ অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ চলতে থাকে। এমনকি তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) কে পর্যন্ত খারাপ ভাষায় গালী দিয়ে থাকে।

বিভিন্ন ব্লগে যখন কোন লেখক তার লেখা প্রকাশ করেন তখন তিনি তার প্রবন্ধটিকে বিভিন্ন পরিচিত ও একাধিক কমন নামে ট্যাগ করে থাকেন, (যেমনঃ গনতন্ত্র, বাংলাদেশ, দেশ, ইতিহাস, ৭১, একাত্তর, অর্থনীতি, ধর্ম, ইসলাম, জামায়াত, শিবির, বি এন পি, আলীগ এরকম যেসকল নামে আপনি আমি সাধারনত সার্চ দিয়ে থাকি।) ফলে গুগল বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে পৃথিবির যেকোন প্রান্ত থেকে যেকেউ সার্চ দিলেই ঐসব লেখা সার্চ রেজাল্টে চলে আসে। এভাবে ট্যাগিং করে করে এতদিনে যিথেষ্ঠ পরিমানে মিথ্যা তথ্য আপ্লোড করা হয়ে গেছে। যেগুলোর বীপরিতে সদুত্তর সমৃদ্ধ কোন তথ্য নেই বললেই চলে।

এইসকল ব্লগে কিছু পরিমানে ইসলাম পন্থী লোকজনও লিখে থাকেন কিন্তু তারা জ্ঞানের দিক থেকে সবাই কাংখিত মানের নন। আবার এদের কে ব্লক বা ব্যান করার জন্য ব্লগের মডারেটর গন সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কোনও একটি অযুহাত পেলেই তাকে সাথে সাথে ব্যান করা হয়। আর ব্যান করা মানেই এ যাবত কালে তিনি যত পোস্ট করেছেন তা মেইন সোর্স থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া।
অপরদিকে অশ্লীল ও ইসলাম বিরোধী কোন পোস্ট বা পোস্ট দাতাকে সাধারনত ব্যান করা হয় না, তবে লোক চোখে ফেয়ার থাকার জন্য কিছু কিছু পদক্ষেপ তারা নিয়ে থাকেন যাতে লোকে তাদেরকে সন্দেহ করতে না পারে। এভাবেই ইন্টারনেট জগত দিনে দিনে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন একজ দুই জন নন হাজার হাজার ব্লগার ব্লগ লিখছেন আর ট্যাগ করছেন। প্রতি মিনিটে নতুন নতুন পোস্ট আসছে, লোকজন সেগুলো পড়ছে। তাই এখন আমাদের ইসলাম পন্থিদের নিজেদের প্রচুর পরিমানে পৃথক পৃথক ব্লগীয় প্লাট ফর্ম দরকার। আরও দরকার দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বেশী বেশী ইণ্টারনেটে সময় দেয়া।

উইকিপিডিয়া এবং এনসাইকোপিডিয়া এই দুটি হল বিশ্ব বিখ্যাত ওয়েব সাইট যেখানে ইতিহাস, অর্থনিতি, সহ সকল বিষয়ে পর্যাপ্ত পরিমান তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ দেয়া থাকে। পৃথীবির নির্ভর্যোগ্য সাইট গুলোর মধ্যে এ গুলোকে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যে কোন ইন্টারনেট ইউজার এগুলো এডিট করা, নতুন তথ্যের সংযোজন করতে পারেন। এভাবে সবার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক বিশাল তথ্যভান্ডার নিমেশেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে পৃথীবির প্রায় সকল ভাষায় এই সাইট গুলো পাওয়া যায়। তাদের বাংলা বিভাগও আছে। কিন্তু তাদের বাংলা বিভাগে যারা কাজ করেন তারা সবাই চরম ভাবে সেক্যুলার ও বাম পন্থী। শুধু তাই নয় ইসলাম পন্থীদের এই সকল কাজে উপস্থিতি সম্পুর্ন শূণ্যের কোঠায়। যার কারনে একপাক্ষিক ভাবে শুধু বাম ও রামদের আদর্শের প্রতিফলনই সেখানে নগ্ন ভাবে ফুটে উঠে। তাই আমাদের উচিৎ বড় অংকের বাজেট নিয়ে ইসলাম পন্থিদেরকে এই সেক্টরে কাজে লাগানো।

আর্বানাইজেশনের এই যুগে তৈরী হচ্ছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। এক একটি অট্টালিকার এক একটি তলায় বাস করছে নিদেন পক্ষে চারটি করে ফ্যমিলি। নিরাপত্তার নামে সে সকল ফ্ল্যাটে প্রবেশ সম্পুর্নই দুরহ। প্রবেশের একমাত্র পথ হল যদি সেই অট্টালিকায় কোন পরিচিত কেউ থাকে। কিন্তু তাতেও লাভ নেই এমন একটা। এক একটি ফ্ল্যাট যেন এক একটি দ্বীপ। কারও সাথে কারও যোগাযোগ নেই। তাই বাড়ী বাড়ী গয়ে দরজায় কড়া নেড়ে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার সুযোগ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। লোক সংখ্যার বিচারে এই রকম একটি অট্টালিকা একটি গ্রামের মতন। যার অর্থ হল এরকম হাজার গ্রামে আমরা দাওয়াত নিয়ে যেতে পারছি না। এই সকল ঘরের সন্তান রা খু একটা বাইরেও বের হয় না। তাদের মায়েরাও ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত নয় যে সন্তানকে ইসলাম শেখাবে। এ যেন দরজা বন্ধ একটি কারাগারে ওরা বন্ধি। অপরিচিত কেউ ঢোকার সাধ্য নেই। কিন্তু একটি জানালা খোলা আছে আর সেটা হল ইন্টারনেট। এই সকল ফ্যামিলির ছেলে মেয়েরা সারাদিন নেটে পড়ে থাকে। তাদের কাছে পৌছার এই একটাই পথ।

যে কারনে এই লেখার প্রথমেই কবি কাজি নজরুলের ঐতিহাসিক ভাষনের কথা টেনে এনেছিলাম, নতুন আবিষ্কারকে আর দূরে ঠেলে দেয়া নয় নতুনকে আমাদের নিজেদের মত করে জয় করে নেবার এখনই সময়। সামনে নতুন যা ই আসুক, প্রত্যাখ্যান নয় বরং জয় করে নেয়াই হোক আমাদের ব্রত।

......আমাকে দাও সে ইমান আল্লাহ মেহেরবান......
যে ইমান ফাঁসির মঞ্চে অসংকোচে গায় জীবনের গান

Re: ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

লেখা ভাল হইসে শামীম ভাই, তবে ফোরামে এধরনের লেখা পড়ে আরাম পাইনা। ফোরাম অনেক বেশি ইনফর্মাল কিনা ../../extensions/custom_smilies/img1/big_smile

Re: ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

সবাই এত ব্যস্ত যে,কারো বাসায় যেয়ে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য সময় বের করাও অনেক সময় খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে যার বাসায় যাওয়া হবে তার সাথে সময় মিলিয়ে যাওয়াটাই কষ্টকর হয়ে যায়। আবার যাওয়ার পরে ব্যস্ততার কারণে কারো বাসায় বেশীক্ষণ বসে থাকারও সুযোগ নেই। কিন্তু অনলাইনে ইসলাম বিষয়ে যে লিখাটি লিখা হচ্ছে তা যত মানুষ পড়ছেন তাদের সবার কাছে দাওয়াত পৌঁছে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে পৃথিবীর যে প্রান্তেই আপনি বাস করুন না কেন সেখান থেকে পুরো পৃথিবীতেই দ্বীনের দাওয়াত প্রচার ও প্রসারের সুযোগ আপনি পাচ্ছেন। অনলাইনের মাধ্যমে যেহেতু অগনিত মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানোর সুযোগ আছে এজন্য অবশ্যই যারা ভাল লিখতে পারেন তাদেরকে একাজে সময় ব্যয় করতে হবে।

Re: ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

ছোটন লিখেছেন:

লেখা ভাল হইসে শামীম ভাই, তবে ফোরামে এধরনের লেখা পড়ে আরাম পাইনা। ফোরাম অনেক বেশি ইনফর্মাল কিনা ../../extensions/custom_smilies/img1/big_smile

ধন্যবাদ তার পরও পড়ার জন্য। আসলে আমি লিখতে গেলেই লেখা গুলো কেমন যেন বড় হয়ে যায়। আর কেমন যেন ভারি ভারি হয়ে যায়। বুঝি না কেন এমন হয়!! লেখার সময় মনকে স্বাধিন ভাবে ছেড়ে দেই তার জিন্য কিনা কে জানে!!

......আমাকে দাও সে ইমান আল্লাহ মেহেরবান......
যে ইমান ফাঁসির মঞ্চে অসংকোচে গায় জীবনের গান

Re: ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

উম্মে হানী লিখেছেন:

সবাই এত ব্যস্ত যে,কারো বাসায় যেয়ে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য সময় বের করাও অনেক সময় খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে যার বাসায় যাওয়া হবে তার সাথে সময় মিলিয়ে যাওয়াটাই কষ্টকর হয়ে যায়। আবার যাওয়ার পরে ব্যস্ততার কারণে কারো বাসায় বেশীক্ষণ বসে থাকারও সুযোগ নেই। কিন্তু অনলাইনে ইসলাম বিষয়ে যে লিখাটি লিখা হচ্ছে তা যত মানুষ পড়ছেন তাদের সবার কাছে দাওয়াত পৌঁছে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে পৃথিবীর যে প্রান্তেই আপনি বাস করুন না কেন সেখান থেকে পুরো পৃথিবীতেই দ্বীনের দাওয়াত প্রচার ও প্রসারের সুযোগ আপনি পাচ্ছেন। অনলাইনের মাধ্যমে যেহেতু অগনিত মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানোর সুযোগ আছে এজন্য অবশ্যই যারা ভাল লিখতে পারেন তাদেরকে একাজে সময় ব্যয় করতে হবে।

আসলে যারা ভালো লিখতে পারে তাদের জন্য তো পুরো সাহিত্য জগতটাই পড়ে আছে, আছে প্রকাশনা বিভাগ গুলো। কিন্তু আরও অনেক চিন্তা চেতনা আছে যেগুলো ঐসব ভালো লেখক রা খুব একটা লেখেন না। তাই আমাদের উচিৎ নিজেদের লেখার মানের চিন্তা না করে যাস্ট লিখে যাওয়া। ভালো লেখকদের আশায় বসে থাকায় কোন ফায়দা আছে বলে আমার মনে হয় না।

......আমাকে দাও সে ইমান আল্লাহ মেহেরবান......
যে ইমান ফাঁসির মঞ্চে অসংকোচে গায় জীবনের গান

Re: ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

সমযোগী একটি লেখা পড়ে ভাল লাগল, ../../extensions/custom_smilies/img1/mellow   যাদের লেখার হাত শক্তিশালী তারাই এমন মহৎ কাজ করতে পারেন। ../../extensions/custom_smilies/img1/unsuree  শামীম ভাই অনেক দিন পর আপনার একটি পোস্ট পড়লাম ।:ohmy:    ফোরামে ইচ্ছে করেই আসিনা, কারণ যেখানে রাজা-রানীর রাজত্ব সেখানে আমার মত নিরহ মানুষের কী বসবাস হবে?? ../../extensions/custom_smilies/img1/tongue_smile  ../../extensions/custom_smilies/img1/tongue  ভাল থাকুন।

Last edited by ফাহিম আহমদ (2010-07-11 12:53:26)

thank's

Re: ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

একটি প্রয়োজনীয় বিষয়ে দৃস্টিপাত করেছেন সেজন্য ধন্যবাদ।

আপনার পোস্ট পর্যালোচনা করতে গেলে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দরকার হয়ে পড়ে।

১. প্রথমে বলা যায় যারা ইসলামী সংগঠন করেন, তাদেরকে আনুগত্য, নৈতিকতা, সৃস্টিশীলতা, আধুনিকতা, পশ্চাদপদতা, দ্বায়িত্ববোধ ইত্যাদি নানাবিধের সমন্বয়ে একটি কঠিন গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে যেতে হয়। একদিকে টান দিলে আরেকদিনে ঝামেলা বেধে যায়, একেকজন মানুষকে একেকরকম প্রত্যাশা, চাপ, বাস্তবতার মধ্যে পথ চলতে হয়্। সবোর্পরি উদার, দুরদৃস্টিসম্পন্ন মানুষের এত অভাব যে এখানে কেউ ভাল উদ্দেশ্যে কিছু করতে গেলেও অনেকসময় হতাশ হতে হয় অথবা ভালো উদ্যোগও যোগ্যতার এবং বিবেচনার অভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

২. প্রজ্ঞা শব্দটি যেকোন দীঘর্মেয়াদী কাজের জন্যই অত্তন্ত মুল্যবান। একটি সিদ্ধান্তের সুদুরপ্রসারী প্রভাব আসলে কি হবে তা চিন্তা করতে পারার মত যোগ্যতা আল্লাহ তায়ালা খুব কম মানুষকেই দিয়ে থাকেন। আবার তার প্রজ্ঞা থেকে  উপকৃত হতে পারাটাও সবার্বস্থায় সম্ভব হয়না। আমরা কখনো কখনো এমন পরিস্থতির মধ্যে পড়ে যাই।
বৃটিশ আমলে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলেমদের সিম্ধান্ত তখনকার সময় হয়তো ঠিকই মনে হয়েছিলো, এখন যা অযৌক্তিক চিন্তা করা হয়। আবার পঞ্চাশ বছর পরে হয়তো মনে হতে পারে তাদের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিলো। ঠিক কিসের মানদন্ডে কোনটাকে সঠিক ধরা হবে সে জ্ঞানও আমাদের সীমাবদ্ধ।

৩. নতুনকে গ্রহন করতে পারাটা সাহসের ব্যাপার। আমাদের শিক্ষা হচ্ছে নতুনকে গ্রহন করতে হবে তবে অবশ্যই যাচাই করে। প্রত্যেকটি জিনিষের ভাল এবং মন্দ দুটো দিক থাকে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে যখন গ্রহন করি তখন যা পাই তাই গ্রহন করি আবার যখন বর্জন করি তখন সব ধরে ফেলে দেই। উপমহাদেশের বৃটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার কথাই
বলি। তাদের প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন না করলেও স্রেফ ভাষা হিসেবে ইংরেজি শিখতে কোন দোষ ছিলোনা। কিন্তু এখানে এক অজানা ভয়ে সবাই কাতর হয়ে রইলো। আবার যখন গ্রহন করা শুরু হলো তখন তাদের বিশ্বাস, চিন্তাধারা, পদ্ধতি এবং এমনকি তাদের ডিগ্রীটা পর্যন্ত কপি করা শুরু করলাম।

৪. শিরোনামে ফিরে আসি। তথ্য প্রযুক্তি আমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার রহমত। ইন্টারনেট সত্য বলার, লেখার অনন্য সুযোগ তো বটেই এমনকি একমাত্র সুযোগে পরিনত হতে পারে। সুতরাং যার যতটুকু সুযোগ আছে সামর্থের ব্যবহার করতে হবে সবটুকু। প্রাপাগান্ডার বৈশিস্টই এমন যে যার মাইক বেশি আপাতত তার জন্য বিজয়। প্রকৃত সত্যের একটা শক্তি আছে বটে তবে তা প্রকাশের আগেই এ বাবদ যথেস্ট মুল্য দিতে হয়।
আর একটা কথা বলা দরকার। উদ্যোগ হওয়া দরকার সুপরিকল্পিত, সুবিবেচনাপ্রসুত। করার জন্য করা কেবল সময় এবং শ্রম নস্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়। লক্ষনীয় যে আমরা এ কাজই বেশি করছি।

Last edited by খালিদ এম শাহীন (2010-07-15 01:13:31)

কে   এ কে ছে   তো মা র   চো খে   অ ন্ধ কা র   অ থৈ  !

Re: ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

খালিদ শাহীন ভাইয়ের সাথে এক মত, তবে যুগোপযোগী পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের অভাবে সৃষ্ট হতাশা ক্ষোভে রুপ নেয়। সেই ক্ষোভ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে। পরবর্তীতে ক্ষোভ বিক্ষোভ ও বিদ্রোহে পরিনত হয়।তাই পুরোনকে আকড়ে না থেকে নতুনকে পরিশীলিত উপায়ে গ্রহন করার বিকল্প নাই।

ইসলামী আন্দোলন কখনই নেতৃত্বের অন্ধ অনুকরন নয়। বরং এখানে একজন আরেক জনের ভুল সংশোধনকারী সে কারনে তৃনমুল থেকে অনেক নতুন পরামর্শ আসবে। এর অন্যতম কারন হলো নতুন প্রজন্মই নতুনের সাথে আগে পরিচিত হয় এবং নতুনের গুরুত্বও তারাই আগে টের পায়। কিন্তু সমস্যা হল উর্ধতন নেতৃত্ব সেগুলো সহজ ভাবে নেন না। তারা মনে করেন এটা স্রেফ তারুন্যের আবেগ উদ্ভূত অতি রঞ্জিত মতামত মাত্র। তাই তারা এসব পরামর্শ বা আইডিয়াকে অত্যন্ত হালকার ভাবে নিয়ে থাকেন। আমাদের এখাণে যারা সফরে আসেন তারা এমনটাই করে থাকেন।

যাহোক যে গোলক ধাধার কথা বললেন সেটাই প্রমান করে আমাদের কোথাও কিছু সমস্যা আছেই। এই যে সমস্যা আছে সেটাই কিন্তু বিবেচনায় আসা দরকার। আর আলেমদের কথায় আসলে কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের সুদুরপ্রসারী সিধ্যান্ত নিতে ব্যার্থই দেখা গেছে। যেদিন তারা সফল হবেন সেদি না হয় অন্য কথা বলা যাবে।

......আমাকে দাও সে ইমান আল্লাহ মেহেরবান......
যে ইমান ফাঁসির মঞ্চে অসংকোচে গায় জীবনের গান